|| শব্দালঙ্কার আলোচনা ||
Автор: আমাদের সাহিত্যAmader Sahitya
Загружено: 2022-07-10
Просмотров: 648
Описание:
শব্দালঙ্কার কাকে বলে ? শব্দালঙ্কারের শ্রেণিবিভাগ গুলির পরিচয় দাও।
শব্দালঙ্কার কাকে বলে ? শব্দালঙ্কারের শ্রেণিবিভাগ গুলির পরিচয় দাও।
উত্তর:
শব্দালংকার:
শব্দের ধ্বনিরূপকে আশ্রয় করে যে অলঙ্কারের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালংকার অর্থাৎ শব্দকে ঘিরে এ অলংকারের সৃষ্টি। এর মূল সৌন্দর্য টুকু ফুটে উঠে শব্দের ধ্বনিরূপে। মনে রাখতে হবে শব্দালংকারের অলংকার নির্ভর করে শব্দের ওপর। তাই ইচ্ছে মতো তাকে বদলে দেয়া যায় না।
শব্দালংকারের শ্রেণিবিভাগ :
শব্দালংকার পাঁচ প্রকার। যথা –
১) অনুপ্রাস, ২) শ্লেষ, ৩) যমক, ৪) বক্রোক্তি, ৫) পুনরুক্তবদাভাস
১) অনুপ্রাস:
অনু শব্দের অর্থ পরে বা পিছনে আর প্রাস শব্দের অর্থ বিন্যাস, প্রয়োগ বা নিক্ষেপ। একই বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ যুক্তভাবে হোক বা বিযুক্তভাবে হোক একাধিকবার উচ্চারিত হয়ে যদি কবিতায় ধ্বনি মাধুর্যের সৃষ্টি করে তবে তাকে অনুপ্রাস অলংকার বলে ।
এর মূল বৈশিষ্ট্য গুলো হল:
ক) এতে একই ধ্বনি বা ধ্বনি গুচ্ছ একাধিক বার ব্যবহৃত হবে।
খ) একাধিক বার ব্যবহৃত ধ্বনি বা ধ্বনি গুচ্ছ যুক্ত শব্দগুলো যথাসম্ভব পরপর বা কাছাকাছি বসবে।
গ) এর ফলে সৃষ্টি হবে একটি সুন্দর ধ্বনি সৌন্দর্যের।
উদাহরণ :
কুলায় কাঁপিছে কাতর কপোত দাদুরি ডাকিছে সঘনে
“গুরু গুরু মেঘ গুমরি গুমরি
গরজে গগনে গগনে,
গরজে গগনে।” …(রবীন্দ্রনাথ)
ব্যাখ্যা : আলোচ্য উদাহরণে ‘ক’ এবং ‘গ’ এই ব্যঞ্জনধ্বনিটি কবিতার মধ্যে বারংবার উচ্চারিত হওয়ার ফলে কবিতায় এমন এক ধ্বনি মাধুর্যের সৃষ্টি হয়েছে, যাতে মনে হয় পংক্তি গুলির ভেতর থেকে মেঘের ডাক ধ্বনিত হয়ে উঠছে। একই ব্যঞ্জনের পুনঃপুনঃ উচ্চারণের ফলে কবিতায় এই ধ্বনি সৌকর্য সৃষ্টি হয়েছে বলে এটি অনুপ্রাস অলংকার ।অনুপ্রাসের শ্রেণিবিভাগ :
অনুপ্রাস অলংকার ছয় প্রকার। যথা –
ক) অন্ত্যানুপ্রাস
খ) শ্রুত্যনুপ্রাস
গ) সর্বানুপ্রাস
ঘ) ছেকানুপ্রাস
ঙ) বৃত্ত্যনুপ্রাস
চ) লাটানুপ্রাস
ক) অন্ত্যানুপ্রাস: কবিতার এক চরণের শেষে যে শব্দধ্বনি থাকে অন্য চরণের শেষে তারই পুনরাবৃত্তির যে অনুপ্রাস অলংকারের সৃষ্টি হয় তার নাম অন্ত্যানুপ্রাস। অর্থাৎ কবিতার দু’টি চরণের শেষে যে শব্দধ্বনির মিল থাকে তাকেই অন্ত্যানুপ্রাস বলে। একে অন্ত্যমিলও বলা হয়ে থাকে। পদান্তের সাথে পদান্তের বা চরণান্তের সাথে চরণান্তের যে ছন্দমিল তাকেই অন্ত্যানুপ্রাস বলে।
উদাহরণ :-
১. এসেছে বরষা, এসেছে নবীনা বরষা,
গগন ভরিয়া এসেছে ভুবন ভরসা।
২. দিনের আলো নিভে এলো সূর্যি ডোবে ডোবে,
আকাশ ঘিরে মেঘ টুটেছে ছাঁদের লোভে লোভে।
৩. রাখাল গোরুর পাল লয়ে যায় মাঠে
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।
এখানে ১নং উদাহরণে ‘বরষা’ ও ‘ভরসা’ ; ২নং উদাহরণে ‘ডোবে’ আর ‘লোভে’ এবং ৩নং উদাহরণে ‘মাঠে’ আর ‘পাঠে’ র অন্ত্যমিল তাই এটি অন্ত্যানুপ্রাস অলংকার।
আরও কিছু উদাহরণ :
৪. “রক্তমাখা অস্ত্রহাতে যত রক্ত আঁখি
শিশুপাঠ্য কাহিনীতে থাকে মুখ ঢাকি।”
৫. “গগনে ছড়ায়ে এলোচুল
চরণে জড়ায়ে বনফুল।”
৬. “আসে গুটি গুটি বৈয়াকরণ
ধূলিভরা দুটি লইয়া চরণ।”
খ) শ্রুত্যনুপ্রাস: বাগযন্ত্রের একই স্থান থেকে উচ্চারিত শ্রতিগ্রাহ্য , সাদৃশ্যময় ব্যঞ্জনবর্ণের অনুপ্রাসকে শ্রুত্যনুপ্রাস অলংকার বলে।
উদাহরণ :-
১. বাতাস বহে বেগে
ঝিলিক মারে মেঘে।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য উদাহরণে ‘বেগে’ শব্দের ‘গ’ এবং ‘মেঘে’ শব্দের ‘ঘ’ যদিও একই বর্ণ নয় তবুও এরা বাগযন্ত্রের একই স্থান (কণ্ঠ) থেকে উচ্চারিত হয়েছে বলে এটি শ্রুত্যনুপ্রাস অলংকার।
২. কালো চোখে আলো নাচে
আমার যেমন আছে।
গ) সর্বানুপ্রাস: সমগ্র চরণের সঙ্গে সমগ্র চরণের যে ধ্বনি সাম্য ঘটে তাকে সর্বানুপ্রাস অলংকার বলে।
উদাহরণ :-
সন্ধ্যা মুখের সৌরভী ভাষা
বন্ধ্যা বুকের গৌরবী আশা।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য উদাহরণে প্রথম চরণের সঙ্গে দ্বিতীয় চরণের শব্দ বা শব্দাংশ গুলির ধ্বনি সাম্য ঘটেছে বলে এটি সর্বানুপ্রাস অলংকার ।
ঘ) ছেকানুপ্রাস: দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত বা বিযুক্ত ভাবে একইক্রমে মাত্র দু’বার ধ্বনিত হলে যে অলংকারের সৃষ্টি হয় তার নাম ছেকানুপ্রাস।
উদাহরণ :- ১. এখনি অন্ধ বন্ধ কোরো না পাখা।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য উদাহরণে ‘ন’ এবং ‘ধ’ এই দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ যুক্তভাবে (ন্ধ) ক্রমানুসারে (ন, ধ) মাত্র দুবার (অন্ধ, বন্ধ) উচ্চারিত হয়েছে বলে এটি ছেকানুপ্রাস অলংকার ।
২. করিয়াছ পান চুম্বন ভরা সরস বিম্বাধরে। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
– এখানে যুক্ত ব্যঞ্জন ‘ম্ব’ একের অধিকবার ক্রমানুসারে ধ্বনিত হয়েছে চুম্বন ও বিম্বাধরে এর মধ্যে, তাই এটি ছেকানুপ্রাস অলংকার।
আরো কিছু উদাহরণ:
৩. অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে ?
৪. নিন্দাবাদের বৃন্দাবনে ভেবেছিলাম গাইব না গান (নজরুল)
৫. জলসিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ রভসে।
ঙ) বৃত্ত্যনুপ্রাস: একটি ব্যঞ্জনধ্বনি একাধিকবার ধ্বনিত হলে, বর্ণগুচ্ছ স্বরূপ অথবা ক্রম অনুসারে যুক্ত বা বিযুক্ত ভাবে বহুবার ধ্বনিত হলে যে অনুপ্রাসের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় বৃত্ত্যনুপ্রাস।
উদাহরণ :-
১. সাগর জলে সিনান করি সজল এলোচুলে। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
– এখানে একক ব্যঞ্জন ‘স’ পরপর তিনবার ও ‘ল’ পরপর চারবার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এটি অলঙ্কার বৃত্ত্যনুপ্রাস।
২. কেতকী কত কী কথা কহে কামিনীর কানে কানে।
চ) লাটানুপ্রাস: যে অনুপ্রাস অলংকারে একই শব্দ দুবার বা তার বেশি একই অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং ধ্বনি সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে, তখন সেই অনুপ্রাসকে লাটানুপ্রাস বলে।
উদাহরণ :-
১. গাছে গাছে ফুল ফুলে ফুলে অলি সুন্দর ধরাতল।
ব্যাখ্যা : আলোচ্য উদাহরণে ‘গাছে’ এবং ‘ফুলে’ শব্দ দুটি দুবার একই অর্থে ব্যবহৃত হওয়ায় দুটি ক্ষেত্রেই লাটানুপ্রাস অলংকার হয়েছে ।
অনুপ্রাস অলংকারের আরও কিছু উদাহরণ :
১. ব্যাকুলতর বেদনা তার বাতাসে উঠে নিশ্বাসি
২. যত করি তাড়া নাহি পাই সাড়া, খুঁজে ফিরি সারা দেশটা
https://wbshiksha.com/shobdalonkar-ka...
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: