রোকেয়ার বেঁচে থাকার লড়াই। বাস্তব গল্প
Автор: Story of Life - গল্পের জীবন 25
Загружено: 2025-08-31
Просмотров: 0
Описание:
গ্রামের মাটির ঘরে জন্মেছিল রোকেয়া। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারায় সে। বয়সটা তখনো বোঝার মতো ছিল না, কিন্তু বাবার অভাব সংসারের প্রতিটি কোণে যেন ছাপ ফেলে রাখল। মা একাই সংসারের ভার কাঁধে নিলেন। সকালে উঠে অন্যের বাড়ি কাজ করা, মাটি কেটে ঘর মেরামত, আবার কখনো কৃষি জমিতে দিনমজুর—সবই করতেন মা। আর ছোট্ট রোকেয়া বসে থাকত দোচালা ঘরের সামনে, অপেক্ষা করত কখন মা ফিরবে। গ্রামের বাচ্চারা স্কুলে গেলেও তার হাতে বই ছিল না। কাঁধে ছিল শুধু দারিদ্র্যের বোঝা। তবুও মায়ের চোখে ভরসার আলো দেখত সে। মা বলতেন—“একদিন তুই বড় হবি, মেয়েদেরও অনেক কিছু করার ক্ষমতা আছে।” রোকেয়া তখনও বুঝতে পারেনি কথাগুলোর গভীরতা, কিন্তু মনের ভেতর কোথাও যেন সেই বীজ রোপণ হয়ে গেল।রোকেয়ার মা ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে নিজের মেয়েকে মুখে ভাত তুলে দিয়ে ছুটে যেতেন কাজে। কারো উঠোন ঝাঁট দিতেন, কারো গরু ছাগল চরাতেন। অনেক সময় দিনের শেষে হাতে আসত মুঠো ভাত আর সামান্য কিছু টাকা। সেদিনগুলোতে রান্না হতো শুধু ভাত আর লবণ। কিন্তু মা কখনো অভিযোগ করতেন না। বরং রোকেয়াকে বুকে টেনে বলতেন—“সোনামণি, কষ্ট করলে একদিন সুখ আসবেই।” এই দৃশ্যগুলো দেখে ছোট্ট রোকেয়া বুঝতে শুরু করেছিল, নারীর শক্তি আসলে তার ধৈর্য আর পরিশ্রমে। সে তখনও জানত না, সামনে তার জন্য আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
সমাজের চাপে খুব অল্প বয়সেই রোকেয়ার বিয়ে হয়ে গেল। গায়ে হলুদের দিন মেয়েটার মনে কিছুটা আনন্দ ছিল—হয়তো এবার সুখ আসবে, হয়তো স্বামী পাশে থাকলে জীবনের কষ্ট হালকা হবে। কিন্তু বিয়ের পরের দিনগুলোতে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন চেহারা নিয়ে হাজির হলো। সংসারে অভাব ছিল, আর তার স্বামী ছিল খিটখিটে স্বভাবের। অল্প অল্প কারণে রাগারাগি করত, অনেক সময় কথায় আঘাত দিত। রোকেয়া চুপচাপ সহ্য করত, ভাবত—এটাও হয়তো সংসারেরই অংশ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার স্বপ্নগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছিল।দিন গড়াতেই গড়াতে রোকেয়া অনুভব করতে থাকল, সংসার মানে শুধু ঝগড়া, অভাব আর কান্না। একদিন হঠাৎ করেই স্বামী সবকিছু ছেড়ে চলে গেল। রোকেয়ার কোলের মেয়েটা তখনো ছোট। হঠাৎ ভেঙে পড়া সংসার যেন তার চারপাশে অন্ধকার নামিয়ে দিল। সমাজের মানুষ চারদিকে কথা বলতে লাগল—“একটা মেয়েমানুষ, তাও আবার একা, কীভাবে সংসার চালাবে?” অনেকে সমবেদনা জানালেও বেশিরভাগই হাসাহাসি আর কটাক্ষ করল। বুকের ভেতর ছোট্ট শিশুটাকে জড়িয়ে ধরে রোকেয়া কাঁদল, কিন্তু তখনই মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করল—“আমি হারব না, আমি ভাঙব না।
স্বামীহীন জীবনে প্রতিটি সকাল ছিল ভয়ঙ্কর। ঘুম ভাঙত মানুষের কথার ভেতর দিয়ে—“একলা মেয়েমানুষের জীবন শেষ।” বাজারে গেলে আড়চোখে তাকাত সবাই। কিন্তু সেই আড়চোখের দৃষ্টি রোকেয়াকে দুর্বল করেনি, বরং ধীরে ধীরে শক্ত করেছে। সে ভাবল—অন্ধকার যত গভীর হবে, আলোর খোঁজ তত বেশি করতে হবে। বুকের ভেতরে একটাই চিন্তা—“আমার মেয়ের মুখে আমি ভিক্ষার ভাত তুলব না।”এক রাতে, ঘরের কোণে মেয়েকে ঘুমাতে দেখে রোকেয়া মনে মনে কথা দিল—“যতই কষ্ট হোক, আমি কাজ খুঁজে নেবো। আমার মেয়েকে আমি সমাজের করুণার দৃষ্টিতে বড় করব না।” সেই সিদ্ধান্তের দিন থেকেই শুরু হলো এক নতুন যাত্রা। এটা আর শুধু রোকেয়ার নয়, প্রতিটি সংগ্রামী মেয়ের গল্প।সকালে বাজার থেকে সামান্য ধার করে কয়েকটা মুরগি আর হাঁস কিনে আনল। প্রথম দিকে আয় খুবই সামান্য ছিল। ডিম বিক্রি করে বাজার থেকে লবণ, তেল, চাল আনত। অনেকে তখন ঠাট্টা করে বলত—“এই দিয়ে সংসার চলবে?” কিন্তু রোকেয়া জানত, বড় স্বপ্ন শুরু হয় ছোট ছোট কাজ থেকে। প্রতিদিন ভোরে হাঁস-মুরগিকে খাবার দিত, পরিষ্কার করত। তার মনে হতো—যেন এই ছোট্ট প্রাণীগুলোই তার নতুন জীবনের সঙ্গী।
এরপর গ্রামে এক মহিলার কাছ থেকে একটা ভাড়ার সেলাই মেশিন নিল। প্রথম দিনে কাপড় কাটতে গিয়ে সুতো জট পাকিয়ে গেল, সেলাই বাঁকা হলো। কিন্তু রোকেয়া হাল ছাড়ল না। সারারাত বসে বসে অনুশীলন করল। কখনো পুরনো কাপড়ে সুতো চালাত, কখনো নিজের পুরনো শাড়ি কাটত। ধীরে ধীরে হাত পাকতে লাগল। তার ভেতরে একটা নতুন বিশ্বাস জন্মালো“হয়তো সত্যিই আমি কিছু করতে পারব।”
রোকেয়ার প্রথম সেলাইগুলো ছিল অদ্ভুত আর অসমান। কখনো ব্লাউজের হাতা ছোট হয়ে যেত, কখনো পায়জামার পাড় কেটে বাঁকা হয়ে যেত। গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল—“ওই মেয়েটা নাকি সেলাই শুরু করেছে।”
অনেকে হেসে বলল—“এই দিয়ে আবার সংসার চলে?” কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলত—“স্বামী যখন ছেড়ে গেছে, তখন সংসার চালানোর ভান করছে।”
প্রতিটি কথাই ছিল তীরের মতো। কিন্তু রোকেয়া সেই তীরকে বুকে না নিয়ে মাথার ওপর তুলে ধরল। প্রতিবার মেয়ের ঘুমন্ত মুখ দেখলেই মনে বলত—“তুই আছিস বলেই আমি লড়ছি। মানুষের কথায় থেমে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎই অন্ধকার হবে।দিনের পর দিন অনুশীলনের পর একদিন পাশের বাড়ির এক বউ তার কাছে ব্লাউজ সেলাইয়ের কাজ দিল। রোকেয়ার হাত কাঁপছিল—যদি ভুল হয়ে যায়!সারারাত বসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করল। সুতো কেটে গেলেও আবার গিঁট দিয়ে সেলাই চালাল। কাজ শেষ হতেই মনে হলো, যেন কোনো যুদ্ধ জিতে এসেছে।
পরদিন সেই বউ এসে ব্লাউজ পরে দেখল। আয়নায় তাকিয়ে বলল—“ভালোই হয়েছে!” রোকেয়ার চোখ ভিজে এল। এটা শুধু এক টুকরো কাপড় নয়, এটা ছিল তার আত্মবিশ্বাসের প্রথম বিজয়।
সেদিনই সে বুঝল—“আমি সত্যিই পারি।”
প্রথম অর্ডার সফল হওয়ার পর খবর ছড়িয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে গ্রামের অন্য মহিলারাও তার কাছে কাপড় দিতে শুরু করল।
শাড়ি, পাঞ্জাবি, ছোট বাচ্চাদের জামা—সব কিছুতেই রোকেয়ার হাতের ছোঁয়া ফুটে উঠল।
তার সেলাইয়ের নিখুঁত কাজ দেখে অনেকে অবাক হতো—“এত সুন্দর সেলাই করে কেমন করে?”
অল্প সময়েই পাশের গ্রাম থেকেও মানুষ আসতে শুরু করল। দোকান না থাকলেও তার নাম ছড়িয়ে পড়ল প্রতিটি বাড়িতে।
রোকেয়া বুঝল—মানুষ হাসাহাসি করে, আবার তারাই হাততালি দেয় যখন তুমি নিজের কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে পার।আগের দিনে এক মুঠো ভাতও জোগাড় করা কষ্ট হতো, সেখানে এখন সেলাই আর হাঁস-মুরগির আয় মিলিয়ে সংসারে একটু আলো আসতে শুরু করল।টেবিলে ভাতের সঙ্গে ডাল, কখনো মাছও রাখা সম্ভব হলো। #tending #history #police #story
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: