সৃজনশীল প্রশ্ন
Автор: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ডিগ্রি - [১ম-৬ম ]
Загружено: 2023-04-25
Просмотров: 24
Описание:
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি কন্যাসন্তানের ভ্রূণ হত্যা করা হয় ‘ক’ দেশে।
এ দেশে কন্যাসন্তানকে অশুভ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবা হয়।
এখানে বছর জুড়ে বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে বড় বড় জুয়ার আসর জমে ওঠে।
জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় নানা দ্বন্দ্ব-সংঘাতের।
এত কিছুর পরও দেশটির মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে।
তারা সংগীত, কবিতা, গণিতসহ জ্ঞানচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
ক্লাসিক্যাল সংগীত ও মহাকাব্য রচনায় তাদের অবদান প্রশংসার দাবি রাখে ।
ক. মালা কী?
খ. প্যাপিরাস বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্রটি কোন সময়কে ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. তুমি কি মনে কর উদ্দীপকে বর্ণিত দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রাক-ইসলামি আরব দেশেরই সাংস্কৃতিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি? মতামত দাও ।
ক)
প্রাক-ইসলামি আরবের রাজনৈতিক সংগঠনকে 'আল-মালা' বা মন্ত্রণাসভা বলা হয় ৷
খ)
প্যাপিরাস বলতে এক ধরনের নলখাগড়া জাতীয় ঘাস বা উদ্ভিদকে বোঝায়, যা দিয়ে মিসরীয়রা কাগজ আবিষ্কার করে ।
নীল নদের তীরে নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস জন্মাত।
মিসরীয়রা এগুলো দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে এক উন্নতমানের কাগজ আবিষ্কার করে।
এক্ষেত্রে প্যাপিরাস গাছের কাণ্ডের ছাল ছড়িয়ে পাশাপাশি রাখা হতো।
একটির ওপর আর একটির ফালি রেখে রোদে শুকানো হতো ।
তারপর ফালিগুলোকে চাপ দিয়ে বানানো হতো প্যাপিরাসের কাগজ ৷
প্যাপিরাস যত ইচ্ছা লম্বা করা যেত ।
গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্রটি আইয়ামে জাহেলিয়া বা অজ্ঞতার সময়কে নির্দেশ করছে।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বের প্রায় একশ বছর সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়।
এটি ছিল অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ।
সভ্য সমাজের কোনো বৈশিষ্ট্য তখনকার মানুষের মধ্যে ছিল না।
সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল জীবন সম্পর্কে তারা একেবারেই অজ্ঞ ছিল।
হত্যা, রাহাজানি, লুটতরাজ নারী হরণ, জুয়া খেলা প্রভৃতি গর্হিত কাজে তারা লিপ্ত থাকত।
তবে সামাজিক অধঃপতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও তারা সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ এবং মানবীয় কিছু গুণাবলি ধারণ করেছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্রটিও এ ধরনের বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত প্রদান করছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটিতে কন্যাসন্তানকে অশুভ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করে ভ্রূণ অবস্থায়ই তাদেরকে হত্যা করা হয়।
একইভাবে প্রাক-ইসলামি আরব সমাজে নারী বা কন্যাশিশুদেরকে অভিশাপ মনে করা হতো।
কন্যাসন্তানের বাবা হওয়াকে লজ্জাকর মনে করে তাদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
অন্যদিকে নারীদের কোনো মর্যাদা ছিল না।
তাদেরকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া আর কিছুই ভাবা হতো না।
আবার মদ, জুয়া ছিল তখনকার মানুষের নিত্য দিনের সাথী।
ঐতিহাসিক খোদাবক্স এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন— 'মদ, নারী, জুয়া ছাড়া তারা একদিনও চলতে পারত না’ উদ্দীপকের 'ক' দেশটিতেও এ ধরনের পরিস্থিতি লক্ষণীয়।
তবে এসব সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে 'ক' দেশটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে; একইভাবে আরবের জাহেলিয়া যুগের মানুষেরাও সাহিত্য চর্চা, কবিতা রচনা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিল।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অধঃপতন এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতির দিকগুলো উদ্দীপকের 'ক' দেশে চিত্রিত হয়েছে।
ঘ)
হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রাক-ইসলামি আরবের সাংস্কৃতিক অবস্থারই প্রতিচ্ছবি ।
সামাজিক অনাচার, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও প্রাক-ইসলামি আরবীয়রা সংস্কৃতিমনা ছিল।
সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করতে তারা প্রতিযোগিতার আয়োজন করত এবং নির্বাচিতদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হতো।
তারা কবিতা, গীতিকাব্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিল ।
তাদের সংস্কৃতি চর্চার এ দিকগুলো তৎকালীন আরবের বাইরেও বিশেষ প্রশংসা পেয়েছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রেও উল্লিখিত বিষয়গুলো লক্ষণীয় ।
‘ক’ দেশটি সংগীত, কবিতা, গণিত চর্চায় বিশেষ অবদান রাখছে। তাদের রচিত ক্লাসিক্যাল সংগীত এবং মহাকাব্য বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে।
একইভাবে ইসলামপূর্ব আরবীয়দের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কবিতা চর্চা।
এক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা, পারদর্শিতা, ভাষা জ্ঞান ছিল উঁচু মানের কাব্যপ্রীতি ছিল তাদের সাহিত্য প্রতিভার উজ্জ্বলতম দিক।
বার্ষিক উকাজ মেলাকে কেন্দ্র করে তারা কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করত।
নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোকে (সাবায়ে মুয়াল্লাকাত) মক্কার দেয়ালে টানিয়ে রাখত এবং শ্রেষ্ঠ কবিদের তারা পুরস্কৃত করত।
ইমরুল কায়েস, আনতারা ইবনে শাদদাদ, লাবিদ ইবনে রাবিয়া, আমর ইবনে কুলসুম ছিলেন তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম ।
তাছাড়া তাদের রচিত কাসিদা বা গীতিকাব্য ছিল উৎকৃষ্ট কাব্যরীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তাদের সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল “দিওয়ান আল হামাসা, আল মুফাজ্জালিয়াত ও কিতাব আল আগানি ।
এগুলো প্রাচীন আরবি সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ।
পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক যুগের মতো শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ না হলেও প্রাক-ইসলামি আরবীয়রা কাব্য ও সাহিত্য চর্চায় বিশেষ মনোযোগী হয়েছিল।
তাদের রচিত সাহিত্যকর্ম তৎকালীন বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
আর এ দিকগুলো বিবেচনায় বলা যায়, 'ক' দেশের সংস্কৃতি চর্চা ইসলামপূর্ব আরবদের সাহিত্য চর্চায় বিশেষ অগ্রগতি অর্জনের দিকটিই উপস্থাপন করে ।
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: