রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে কতটা প্রিয়||কেন রোজাদারদের জন্য সমস্ত সৃষ্টি দোয়া করে
Автор: Din And Voice
Загружено: 2022-04-06
Просмотров: 118
Описание:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা আশা করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানি ও দোয়ায় আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আহমাদ বাইহাকী শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন আমার উম্মতকে রমজান শরীফ এর ব্যাপারে পাঁচটি জিনিস বিশেষভাবে দান করা হয়েছে । যা কোন নবীর উম্মতকে দান করা হয়নি। একটি হল:- এ মাসে রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের ঘ্রানের চাইতেও অধিক প্রিয় এবং আরেকটি হল:- এ মাসে রোজাদারদের জন্য নদী- সাগরের মাছও দোয়া করে এবং ইফতার পর্যন্ত করতে থাকে। সুবহানাল্লাহ।
আল্লাহ যদি তৌফিক দেন আজকে এই ভিডিওতে এই দুটো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব এবং হাদিসের আরো তিনটি বিষয় অন্যান্য ভিডিওতে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
সুপ্রিয় দর্শক,মেশকে আমাদের দেশে কস্তুরিও বলে। এটি অত্যন্ত মূল্যবান সুগন্ধি। এটি পুরুষ হরিণের পেটে অবস্থিত সুগন্ধি গ্রন্থি নিসৃত সুগন্ধির নাম। মিলন ঋতুতে পুরুষ হরিণের পেটের কাছের কস্তুরি গ্রন্থি থেকে সুগন্ধ বের হয়, যা মেয়ে হরিণকে আকৃষ্ট করে। ঋতুর শেষে তা হরিণের দেহ থেকে খসে পড়ে যায়। সেটি সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে কস্তুরি তৈরি করা হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ কস্তুরির ওজন ৬০ থেকে ৬৫ গ্রাম হয়।
এই সুগন্ধি এতটাই শক্তিশালী যে কথিত আছে, কস্তুরি বা মেশকের একতিল পরিমাণ কোনো বাড়িতে ফেললে বহু বছর সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। তিন হাজার ভাগ নির্গন্ধ পদার্থের সঙ্গে এর এক ভাগ মেশালে সব পদার্থই সুবাসিত হয়, কস্তুরি বা মেশকের ঘ্রাণে। সুবহানাল্লাহ। আরেকটি হলো আম্বর। যা বিশেষ এক ধরনের সুগন্ধি। হাদিসে আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেশক ও আম্বরের সুগন্ধি ব্যবহার করতেন।
হাদিসে বলা হয়েছে, রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ যা ক্ষুধা অবস্থা সৃষ্টি হয় আল্লাহ তাআলার কাছে মেশকে আম্বরের চেয়েও বেশি প্রিয়। হাদিস ব্যাখ্যা কারক গণের মতে এই কথাটির আটটি অর্থ হতে পারে। তবে এখানে তিনটি অর্থ উল্লেখ করব ইনশাল্লাহ।
এক হচ্ছে:-আল্লাহ তাআলা আখিরাতে এই দুর্গন্ধের বদলা ও সওয়াব এমন খুশবু দ্বারা করবেন, যা মেশকের চাইতেও অধিক উত্তম ও মস্তিষ্ক সতেজকারী হবে। সুবহানাল্লাহ। এই অর্থ একেবারেই স্পষ্ট এবং তা অসম্ভবও কিছু নয়। দুররে মানসুর কিতাবের এক হাদীসে এর স্পষ্ট বর্ণনাও রয়েছে। সুতরাং এই অর্থকে প্রায় নিশ্চিত বলা যায়।
দ্বিতীয় হচ্ছে:-কেয়ামতের দিন যখন কবর হতে উঠানো হবে, তখন এই আলামত হবে যে, রোজাদারদের মুখ হতে এক প্রকার খুশবু বের হবে। তা মেশকে আম্বরের চেয়েও উত্তম হবে। সুবহানাল্লাহ।
তৃতীয় হচ্ছে:-দুনিয়াতেই রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চাইতেও প্রিয়। এটা মহব্বতের ব্যাপার। কেননা যদি কেউ কারো প্রতি আসক্ত হয় তখন তার দুর্গন্ধ নিজের কাছে হাজার খুশবুর তুলনায় অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় হয়।
এই কথা দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য যে, রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে আল্লাহর প্রিয় পাত্র হয়ে যায়। রোজা আল্লাহ তাআলার প্রিয় ইবাদত।
এজন্যই হাদিস কুতসীতে আল্লাহ তাআলা বলেন, (প্রত্যেক নেক আমলের বিনিময় ফেরেশতারা দান করে আর রোজার বিনিময়ে আমি নিজে দান করি, কেননা ইহা একমাত্র আমারই জন্য) সুবহানাল্লাহ। কোন বর্ণনায় হাদিসের শব্দ "উজ জা-বিহ"বর্ণিত রয়েছে। যার অর্থ 'আমি নিজে এই রোজার বিনিময়'! সুবহানাল্লাহ। স্বয়ং আল্লাহ এবং তার ভালোবাসা যদি লাভ হয়ে যায় তবে এর চাইতে উত্তম বদলা ও বিনিময় আর কি হতে পারে?
এই হাদীসের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো:-রোজাদারদের জন্য মাছ ইস্তেগফার করে। এটা দ্বারা এ কথা বোঝানোর উদ্দেশ্য যে, রোজাদারদের জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার কারীর সংখ্যা অনেক বেশি। বিভিন্ন রেওয়াতে এটার উল্লেখ রয়েছে। কোন কোন রেওয়াতে আছে, ফেরেশতাগণ তার জন্য ইস্তেগফার করেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে সূরা মারিয়াম এর ৯৬ নম্বর আয়াতে বলেন--যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে আল্লাহ অচিরেই (অর্থাৎ দুনিয়াতেই) তাদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।
হাদীস শরীফে আছে, আল্লাহ তায়ালা যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন হযরত জিবরাঈলকে আলাই হিওয়া সাল্লামকে বলেন-আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো। এরপর জিবরাঈল আলাই হিওয়া সাল্লাম নিজে তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানে এই ঘোষণা দিয়ে দেন যে, অমুক বান্দা আল্লাহর কাছে প্রিয় তোমরা সবাই তাকে ভালোবাস। সুবাহানাল্লাহ। অতঃপর সমস্ত আসমান বাসি তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। এইভাবে জমিনেও তার মোহাব্বত ও জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে দেয়া হয়। আল্লাহু আকবার।
সাধারণত দেখা যায় যে, কোন ব্যক্তিকে তার আশেপাশের লোকেরাই মহব্বত করে থাকে। কিন্তু রোজাদার ব্যক্তির মোহাব্বত ও জনপ্রিয়তা এতই ব্যাপক হয়ে যায় যে, শুধু আশেপাশের লোকেরা নয় বরং পানি, সাগর-নদীতে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যেও তার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়। অতঃপর এই সমস্ত প্রাণী তার জন্য দোয়া করে। সুবাহানাল্লাহ। তার প্রতি মহব্বত এত ব্যাপক হয়ে যায় যে, স্থল ভাগ অতিক্রম করে পানিজগতে পৌঁছে যায়, যা জনপ্রিয়তার সর্বশেষ স্তর। এটা দ্বারা বনের প্রাণীরাও যে রোজাদারদের জন্য দোয়া করে তা বুঝা গেল আল্লাহু আকবার।
আমরা যেভাবে রোজা রাখলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন হবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে সেই ভাবে রোজা রাখার তৌফিক দান করুন । আল্লাহুম্মা আমীন।
রমজানের ফজিলত
আল্লাহর কাছে রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ কতটা প্রিয়
কেন সমস্ত সৃষ্টি রোজাদারদের জন্য দোয়া করে
রমজানের বয়ান
রমজানের কোরআন তেলাওয়াত
রমজান মাসে কেন শয়তান বন্দি থাকে
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: