অনাসক্তি আসবে কি করে ? ANASAKTI - ETERNAL PEACE SEEKER - SSPF
Автор: Sasanka Sekhar Peace Foundation
Загружено: 2023-06-27
Просмотров: 2539
Описание:
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, কর্ম্ম করো, কিন্তু আসক্ত হয়ো না। তুমি নিয়ত কর্ম্ম করবে, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, তোমাকে যেন কর্ম্ম আবদ্ধ করে না ফেলে। প্রতিটি বিষয়কে গ্রহণ করবার শক্তি যেমন তোমাকে অৰ্জন করতে হবে, তেমনি সেই বিষয়কে বৰ্জন করবার শক্তি যেন আমরা হারিয়ে না ফেলি। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সংসার বেঁধেছিলাম সুখ পাবো বলে, এখন সেই সংসার যেন আমাকে না বেঁধে ফেলতে পারে, সেই দিকে নজর দিতে হবে। প্রত্যেকটি বিষয় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবার বিদ্যাও শিখতে হবে। বস্তু তা সে যতই প্রিয় হোক, তাকে ত্যাগ করতে হবে। আর এই ত্যাগ করতে যেন বেদনা না আসে, এই শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।
জীবাণু তো সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভাইরাস না আছে কোথায় ? কিন্তু নিজের মধ্যে যদি প্রতিরোধ শক্তি থাকে তবে সেই ভাইরাস তোমাকে আক্রমন করতে পারবে না। জীবনে সবচেয়ে দুঃখের কারন হচ্ছে, নিজেকে দাস করে ফেলা। নিজেকে দুর্ব্বল করে ফেলা। এই দুর্ব্বলতা জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্ব্বলকে সবাই আঘাত করে, দুর্বলতাই মৃত্যু ডেকে আনে । জীবন থেকে সমস্ত দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে দাও। নিজের মধ্যে থেকে দাসত্বের বৃত্তি, দাসত্বের মনোভাবকে দূর করে দাও। শক্তিকে আশ্রয় করো। শক্তিই জীবন, শক্তিই সুখ, সত্যকে আশ্রয় করো, সত্যই জীবন।
দুঃখে যাদের জীবন চলছে, তাদের দিকে একবার খেয়াল করলেই দেখতে পারবেন, তাদের এই দুঃখের কারন হচ্ছে, আসক্তি। কর্ম্মের প্রতি আসক্তি, সাফল্যের প্রতি আসক্তি, আত্মীয় স্বজনের প্রতি আসক্তি, বন্ধু বান্ধবের প্রতি আসক্তি, স্ত্রী-পুত্র পরিবারের প্রতি আসক্তি।
প্রকৃত আনন্দ পেতে গেলে, আমাদের অনাসক্ত হতে হবে। একটা বয়সে, সংসারের কাজ ছেড়ে দিতে হবে, ঈশ্বরের কাজ করতে হবে। ধরা-ছাড়াতে যারা স্বচ্ছন্দ তাদের জীবন হয়, সহজ সরল। আমাদের সবার জীবনে একটা সময় আসে, যখন চাকরি থেকে অবসর নিতে হয়, তেমনি প্রত্যেকের জীবনে একটা সময় বেছে নিতে হয়, যখন সে সংসার থেকে অবসর নেবে। তথাকথিত কর্ম্ম থেকে অবসর নেবে। একটা জিনিস জানবেন, অনাশক্তিই জীবনে আনন্দ এনে দিতে পারে। যার মধ্যে ইচ্ছেশক্তি অনাসক্ত এনে দিতে পারে, তার মধ্যে আনন্দের অভাব হয় না।
আর এই ক্ষমতা আমার, আপনার সবার মধ্যেই আছে। জীব-জন্তু সাধারণত পেট ভোরে গেলে, আর খাবারের সন্ধানে বেরোয় না। মানুষই একমাত্র, যার পেটের ক্ষিদে মিটে গেলেও, তার মনের খিদে মেটে না। আবার এই মানুষেরই ক্ষমতা আছে, ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করবার। জীব জন্তু ক্ষুধা তৃস্না সহ্য করতে পারে না।
এখন কথা হচ্ছে, তাহলে কি আমরা সবাই কাজ-কর্ম্ম ছেড়ে দিয়ে সংসার ছেড়ে সন্যাসী হয়ে যাবো ? কিছু লোক অবশ্য আমাদের মধ্যে আছেন, তাঁরা কোনো কিছুতেই আকৃষ্ট হন না। যাদেরকে আমরা তথাকথিত সন্ন্যাসী বলি। এদের কঠিন হৃদয়, এরা এমনকি ভালোবাসতেও চায় না। এদের মন কঠিন। কিন্তু পাথরের মতো মন নিয়ে আপনি হয়তো দুঃখে এড়িয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তখন আনন্দও আপনার কাছ থেকে দূরে চলে যাবে। এই অবস্থা কাম্য নয়। এই জড়বৎ অবস্থায়, দুঃখবোধ না থাকতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের আনন্দবোধ থেকেও তিনি বঞ্চিত থাকে। বরং আমরা চাই, একটা প্রেমময় জীবন। যেখানে সহানুভূতি থাকবে, ভালোবাসা থাকবে, কিন্তু ভালোবাসার বস্তুর প্রতি আসক্তি থাকবে না। এ এক অদ্ভুত রহস্য যা আমাদের শিখতে হবে।
দেখুন, ভিখারি কখনো সুখী হতে পারে না। আবার ব্যবসায়ীও কখনো সন্তুষ্ট হতে পারে না। যারা জীবনকে ভিক্ষারিবৎ করেছেন, অথবা জীবনকে নিয়ে কেবল ব্যবসা করছেন, তারা ঘৃণার পাত্র, তারা জীবনে কখনো সুখী হতে পারেন না। এই ভিক্ষারী লাখটাকা পেলেও, ভিক্ষাই করবে। মন্দিরে মসজিদে গীর্জায়, এই ভিক্ষারিদের দর্শন পাওয়া যায়। এদেরমধ্যে কেউ মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইছে, আবার কেউ ঈশ্বরের কাছে ভিক্ষে চাইছে।
আবার যারা জীবন-ব্যবসায়ী তারা প্রেম নিয়ে ব্যবসা করে, ধর্ম্ম নিয়ে ব্যবসা করে, ব্যবসায়িক বৃত্তিই তার জীবনকে টেনে নিয়ে চলেছে, একটা অজ্ঞান অন্ধকারের দিকে।
এখন কথা হচ্ছে, আমরা এই বস্তু বা বিষয় বা সংসারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি কিভাবে ? আসলে আমরা যাকিছু দেই, তার একটা প্রতিদান আশা করি। আর এর ফল হয় উল্টো, আমরা ভালোবাসা দিয়ে দুঃখ পাই। কিন্তু সত্য হচ্ছে, এই দুঃখ বাইরে দিকে আসে না, আমার্ ভালোবাসার প্রত্যাশা, অপূর্ন হলেই, আমার ভিতর থেকে থেকেই দুঃখ আসে। দুঃখের বাহক হচ্ছে বাসনা। বাসনাই দুঃখ বহন করে নিয়ে আসে।
ETERNAL PEACE SEEKER - SASANKA SEKHAR PEACE FOUNDATION
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: