চর
Автор: মৌমাছি
Загружено: 2026-01-29
Просмотров: 33
Описание:
চর কুকরি-মুকরি(#Char #KukriMukri): চর কুকরী মুকরী হচ্ছে বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত একটি নয়নাভিরাম দ্বীপ ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, অনেকে আদর করে একে #দ্বীপকন্যা" বলে থাকেন । কুকরি মুকরির ম্যানগ্রোভ বাগানকে সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে এখানে গেলে সুন্দরবন ভ্রমনের অনুভুতি জাগে তাই এ্টি মিনি সুন্দরবন" নামেও পরিচিত। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা এই চরে ম্যানগ্রোভ বন, হরিণ, বানর ও নানা প্রজাতির পাখির সমাহার রয়েছে । এটি একটি জনপ্রিয় রোমাঞ্চকর পর্যটন কেন্দ্র । বর্তমানে কুকরি মুকরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম।
আমাদের ভোলা জেলা ভ্রমন শুরু রংপুর থেকে। আমরা চার জন ট্রেন যোগে ঢাকায় যাই। ঢাকার সদরঘাট থেকে দিনের লঞ্চে ভোলার ইলিশা লঞ্চ ঘাট। ইলিশা লঞ্চ থেকে সিএনজি যোগে চরফ্যাশানে হোটেলে রাত্রিযাপন। অবশ্য রাতের লঞ্চে গেলে সরাসরি চরফ্যাশানের বেতুয়া ঘাটে যাওয়া যায়। পরদিন সকালে নাস্তা সেরে চরফ্যাসানের সালমান আহম্মেদ নামে পরিচিত এক ভাইসহ সিএনজি যোগে কচ্ছপিয়া লঞ্চ ঘাটে যাই। কচ্ছপিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ট্রলার যোগে লেকের মধ্যদিয়ে চর কুকরি-মুকরি যাওয়ার পথে সত্যিই সুন্দরবন ভ্রমনের মত ফিল অনুভব করি। কেননা লেকটিকে সরকারী ভাবে সুন্দরবনের আদলে পরিকল্পিত ভাবে সুন্দরী গেওরা,পশুর গোলপাতা কেওড়া ইত্যাদি শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। প্রকৃতির এ সৌন্দার্য অবলোকন করতে করতে চরকুকরি মুকরি লঞ্চ ঘাটে পৌছাই। সেখান থেকে আরো ৫ কিলোমিটার অটো রিকশায় করে দুর্গম অঞ্চলে পৌছাই। গাছের তৈরী সাকোতে চরে ডাকাতিয়া খাল পার হয়ে বনের পথ ধরি । বনের পথটি পায়ে হেঁটে যাওয়ার চলাচলের উপযোগি করার জন্য লোহার এ্যাঙ্গেল ও কংক্রিটের প্লেট দ্বারা তৈরী। প্রায় ১ কিলোমিটিার পায়ে হাটার পর আরো একটি খাল পাওয়া যায়। এ খালটি নৈকায় করে পার হতে হয়। খাল পার হয়ে চর কুররি মুকরির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ওয়াচ টাওয়ার, নারিকেল বাগানের দেখা মেলে।
খাল পার হওয়ার সময় আমরা তিনটি টাটকা ইলিশ মাছ জেলের কাছ থেকে কিনে নেই। ঐ ইলিশ মাছগুলি সেখানকার অস্থায়ী হোটেলে রান্নাসহ দুপুরের খাবারের চুক্তি করে দুপুরের খাবার সেরে নেই। এখানে অনেকে ১ দিনের পিকনিকে এসেছেন। কেউ কেউ বিকেল বেলা এখানে ফুটবল হাড়িভাঙ্গাসহ বিভিন্ন খেলায় মজা করছেন। কেউবা দোলনায় দুলছেন। এর পর সন্ধা ঘনিয়ে এলে একটি তাবু ভাড়া করি রাত্রি যাপনের জন্য । তাবুতে রাত্রিযাপন করা এক নতুন অভিজ্ঞতা। তাবুর একদিকে গভীর বন অন্যদিকে মেঘনা নদী। এ যেন সিনেমার রোমাঞ্চকর কাহিনীর মত সিনেমার নায়ক আটকে পড়া দ্বীপে রাত্রি যাপন করার সময় বন্য প্রাণীর আক্রমন থেকে বাঁচতে যেমন সারা রাত শুকনো কাঠে আগুন জ্বালায় তেমনি আমরা রাত্রে তাবুর সামনে শুকনো কাঠে আগুন জ্বালাই। আমাদের মত বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকজন এসেছেন। তারাও তাবুর মধ্যে রাত্রি যাপন করবেন। রাতের নির্জন পরিবেশে চারিদিকে শেয়ালসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর ডাকে গা ছম-ছম করে ঘুম আসেনা এ এক রোমাঞ্চকর অনুভুতি। সত্যিই আমাদের এবারের ভ্রমনটা অনেক আনন্দদায়ক হয়েছে।
চর কুকরি-মুকরি বাংলাদেশের অন্যতম সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আওতাভূক্ত এই দ্বীপটি ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে। বঙ্গোপসাগরের উপকন্ঠে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় কয়েকশ বছর আগে জেগে ওঠা দ্বীপ এটি। ঐতিহাসিকভাবে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় ১৯১২ সালে এ চর জেগে উঠে। তৎকালীন জার্মান যুবরাজ প্রিন্স ব্রাউন জনমানবহীন এই চরে জাহাজ নিয়ে আসেন শিকারের উদ্দেশে। দেখতে পান বিড়াল ও কুকুর ছোটাছুটি করছে। জার্মান ভাষায় কুকুর বিড়ালকে কুকরি মুকরি বলা হয়। সেই থেকে নামকরণ হয়ে যায় চর কুকরি মুকরি।
১৯৮৯ সালে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়। বর্তমানে কুকুরি মুকুরি চরে বনভূমির পরিমাণ ৮৫৬৫ হেক্টর, যার মধ্যে ২১৭ হেক্টর জমি বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রম এবং বসতি ও কৃষি আবাদের জন্য প্রায় ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমি রয়েছে। এ বনভূমিতে প্রায় ৯ কোটিরও বেশি জীবন্ত গাছ রয়েছে। মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।
#চরকুকবিমুকরি #চরফ্যসান #ভোলা
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: