গ্রিস | এমন কী আছে যে, ১ কোটি মানুষের দেশে ৩.৫ কোটি মানুষ ঘুরতে যায়? | [এখনই সময় বলার]
Автор: এখনই সময় বলার!
Загружено: 2026-02-24
Просмотров: 183
Описание:
ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত প্রাচীন ঐতিহ্য, দার্শনিক চিন্তাধারা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক দেশ—গ্রিস। যার আনুষ্ঠানিক নাম হেলেনিক প্রজাতন্ত্র। হাজার বছরের ইতিহাস, অসংখ্য সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, সভ্যতার বিকাশ এবং আধুনিকতার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই দেশকে যথার্থভাবেই বলা হয় পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্মভূমি।
ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
গ্রিস ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত এবং এক অনন্য ভৌগোলিক সংযোগস্থল—ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মিলনবিন্দু। দেশের আয়তন প্রায় ১,৩১,৯৪০ বর্গকিলোমিটার। আয়তনে তুলনামূলক ছোট হলেও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
দেশটির প্রায় ৮০% এলাকা পাহাড়ি। গ্রিস ইউরোপের অন্যতম পাহাড়বহুল দেশ। এখানে রয়েছে অসংখ্য পর্বতমালা, উপত্যকা ও সবুজ পাহাড়ি অঞ্চল। সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট অলিম্পাস, যা প্রাচীন গ্রিক পুরাণে দেবতাদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
গ্রিসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যা সমুদ্র থেকে ১৩৭ কিলোমিটারের বেশি দূরে। ফলে সমুদ্র এখানকার জীবন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দ্বীপের দেশ
গ্রিসকে বলা হয় দ্বীপের দেশ। প্রায় ৬,০০০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই রাষ্ট্রে বসবাসযোগ্য দ্বীপের সংখ্যা প্রায় ২২৭টি। বাকি দ্বীপগুলো ছোট, শুষ্ক এবং পানির অভাবে বসবাসের উপযোগী নয়।
এই বিপুল দ্বীপসংখ্যার কারণে গ্রিসের উপকূলরেখা প্রায় ১৩,৬৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ—যা ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ উপকূলরেখা।
সবচেয়ে বিখ্যাত দ্বীপগুলোর মধ্যে রয়েছে:
সান্তোরিনি
রোডস
ক্রিট
মাইকোনোস
বিশেষ করে সান্তোরিনি তার সাদা-নীল রঙের ঘরবাড়ি এবং মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্তের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটি একটি আগ্নেয়গিরির ক্যালডেরা দ্বীপ—যা পৃথিবীর অন্যতম অনন্য ভৌগোলিক গঠন।
সীমান্ত ও সাগর
গ্রিসের স্থলসীমান্ত রয়েছে চারটি দেশের সাথে:
আলবেনিয়া
উত্তর ম্যাসেডোনিয়া
বুলগেরিয়া
তুরস্ক
পূর্বে রয়েছে এজিয়ান সাগর, পশ্চিমে আয়োনীয় সাগর এবং দক্ষিণে বিশাল ভূমধ্যসাগর।
ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়
গ্রিসের ইতিহাস হাজার বছরেরও পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা মানব ইতিহাসে বিপ্লব ঘটিয়েছে। গণতন্ত্র, দর্শন, গণিত, বিজ্ঞান, সাহিত্য—সব ক্ষেত্রেই তাদের অবদান অপরিসীম।
গ্রিস বিভিন্ন সময়ে শাসিত হয়েছে:
ম্যাসিডোনিয়ান সাম্রাজ্য
রোমান সাম্রাজ্য
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
অটোমান সাম্রাজ্য
১৮৩০ সালে অটোমান সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে আধুনিক গ্রিস রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
রাজধানী এথেন্স—যেখানে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল। এথেন্স শহরে অবস্থিত পার্থেনন আজও প্রাচীন স্থাপত্যের গৌরব বহন করছে।
বিশ্বখ্যাত মনীষী
গ্রিস জন্ম দিয়েছে অসংখ্য দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ:
পিথাগোরাস — বিখ্যাত উপপাদ্যের জন্য পরিচিত।
আর্কিমিডিস — ভাসমানতার সূত্র ও “ইউরেকা”র জন্য বিখ্যাত।
হেরোডোটাস — ইতিহাসের জনক।
হিপোক্রেটিস — পাশ্চাত্য চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক।
সক্রেটিস — নৈতিক দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্লেটো — একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা।
অ্যারিস্টটল — যুক্তিবিদ্যার সুসংগঠিত পদ্ধতির প্রবর্তক।
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট — বিশাল সাম্রাজ্যের বিজেতা।
হোমার — ইলিয়াড ও ওডিসির রচয়িতা।
অলিম্পিকের সূচনা
প্রথম প্রাচীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ সালে অলিম্পিয়া শহরে। আধুনিক অলিম্পিক শুরু হয় ১৮৯৬ সালে এথেন্সে।
আজও অলিম্পিকের আগুন গ্রিসের অলিম্পিয়া থেকে জ্বালানো হয়—যা ঐতিহ্যের প্রতীক।
ব্লু জোন রহস্য
বিশ্বে মাত্র পাঁচটি “ব্লু জোন” আছে—যেখানে মানুষ গড়ে দীর্ঘায়ু হয়। তার একটি হলো ইকারিয়া দ্বীপ।
অন্য চারটি হলো:
ওকিনাওয়া
সার্ডিনিয়া
নিকোয়া উপদ্বীপ
লোমা লিন্ডা
ইকারিয়ার মানুষ সাধারণত প্রাকৃতিক খাবার, জলপাই তেল, শাকসবজি এবং সামাজিক বন্ধনে ভরপুর জীবনযাপন করেন।
অর্থনীতি ও ইউরোপীয় সংযোগ
গ্রিস ১৯৮১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এ যোগ দেয়। ২০০১ সাল থেকে ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করছে।
দেশটির অর্থনীতি নির্ভরশীল:
পর্যটন
শিপিং
কৃষি
পরিষেবা খাত
২০২৪ সালে প্রায় ৩ কোটি ৫৯ লক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রিস ভ্রমণ করেছেন—যা দেশের মোট জনসংখ্যার সাড়ে তিন গুণ।
জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি
গ্রিকরা প্রাণবন্ত, অতিথিপরায়ণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক। খাবার, সঙ্গীত, নাচ ও আড্ডা তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
গ্রিসে বছরে প্রায় ২৫০ দিনের বেশি রোদ থাকে। এটি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম জলপাই তেল উৎপাদনকারী দেশ।
ধর্মীয়ভাবে প্রায় ৮৮% মানুষ খ্রিস্টান। শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের হার প্রায় ৮০%।
উপসংহার
সব মিলিয়ে গ্রিস এমন এক দেশ, যেখানে ইতিহাসের গভীরতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দর্শনের জ্ঞান, সংস্কৃতির প্রাণশক্তি এবং আধুনিকতার ছোঁয়া একসাথে মিশে গেছে।
প্রাচীন পার্থেননের স্তম্ভ থেকে শুরু করে সান্তোরিনির সূর্যাস্ত—সবকিছু মিলিয়ে গ্রিস এক জীবন্ত জাদুঘর, এক অনন্ত শিক্ষার ক্ষেত্র, এক অনন্য অভিজ্ঞতার নাম।
ভিডিওটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন। এমন আরও শিক্ষণীয় ও রুচিশীল কনটেন্ট পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: