সুন্দরবনের গোল গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব । Economic Importance of Nipa Palm Tree of the Sundarbans
Автор: Nature & Health
Загружено: 2024-11-16
Просмотров: 915
Описание:
সুন্দরবনের গোল গাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব । Economic Importance of Nipa Palm Tree of the Sundarbans:
অনেকেই হয়তো জানেন যে আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নারিকেল গাছের মত দেখতে এক ধরণের অর্থকরী গাছ পাওয়া যায়, যেটি আমাদের কাছে গোলপাতা গাছ হিসাবে সুপরিচিত। আসলে এ গাছের প্রকৃত নাম হচ্ছে গোলগাছ। যে কোন গাছের নাম সাধারণত এর ফলের নামানুসারেই হয়। গোলগাছের নামও এর ফলের নামানুসারেই হয়েছে, পাতার নামে নয়! এ গাছের পাতা নারিকেল পাতার মত সরু এবং লম্বা। একেকটি পাতা ৩ থেকে ৯ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ইংরেজীতে এ গাছকে বলে Nipa palm এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Nypa fruticans. গোলগাছ বাংলাদেশে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর জন্মে।
এ গাছের ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের পাতার গোড়া হতে মোচা আকারে ফুল বের হয়। ফুল থেকে দৃষ্টিনন্দন ফল হয় এবং ফল ধীরে ধীরে তালের কাঁধির মত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ গাছের ফলের কাঁদি দেখতে গোলাকৃতি। কাঁঠালের মত এটি একটি যৌগিক ফল। প্রতি কাঁদিতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টির ফল জড়াজড়ি করে গোল হয়ে থাকে। প্রতিটি ফল দেখেতে অনেকটা বেলুনের মত। এর গোড়ার দিকটা কালচে এবং উপরের দিকটা হলদেটে রংয়ের হয়। পরিপক্ক ফলের ভিতরের শাঁষ তালের শ্বাষের মত দেখতে এবং এর স্বাদ অনেকটাই কাঠবাদামের মতো। এটি শিশুদের অনেক প্রিয় খাবার। অনেকে তালের শ্বাষের মত এই ফল কেটে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করে থাকে।
গোল গাছের রস এবং রস হতে তৈরী গুড় খুব সুস্বাদু। শীতের শুরু থেকে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত বিশেষ প্রক্রিয়ায় রস সংগ্রহ করা হয়। রস সংগ্রহ করা হয় কাঁধির ডাটি থেকে। রস সংগ্রহের সুবিধার্থে কাঁদিসহ ডাটিটিকে নীচের দিকে কাত করে প্রায় ১৫ দিন যাবত বেঁধে রাখা হয়, যাতে করে ডাটি নীচের দিকে সব সময় কাত হয়ে থাকে এবং রস সংগ্রহে সুবিধা হয়। এরপর কাঁধিসহ ডাটির কিছু অংশ কোণাকোণিভাবে কেটে ফেলা হয়। বিকাল বেলায় ডাটির মাথায় একটি পাত্র বেঁধে পাত্রটির নীচে এমনভাবে একটি ঠেস দেয়া হয় যাতে ভারে পাত্রটি নীচে পড়ে না যায়। পরদিন সকাল বেলা পাত্র হতে রস সংগ্রহ করা হয়। এরপর খেজুরের গুড় তৈরীর মত রস আগুনে জ্বাল দিয়ে তৈরী করা হয় স্বাস্থ্যসম্মত গুড়। এই গুড় খুব সুস্বাদু। এই গুড় দেশে বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা কেজি দরে পাওয়া যায় প্রতি কেজি গুড়। রস হতে গুড় তৈরীর বেশিরভাগ কাজ বাড়ির মহিলারাই করে থাকে।
যারা গোলপাতা সংগ্রহ করে তাদেরকে বলা হয় বাওয়ালী। অতীতে বংশ পরম্পরায় বাওয়ালীরা গোলপাতা সংগ্রহের কাজ করত। বর্তমানে অনেকেই আর এই পেশার সংগে জড়িত নেই। শুকনো মৌসুমে বাওয়ালীরা পরিপক্ক গোলগাছের পাতা কাটা শুরু করে। তারপর কাঁচা পাতা শুকিয়ে বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত করে। শুকনো পাতা বিক্রির জন্য বড় বড় নৌযানে করে বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হয়। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি শুকনো গোলপাতা দিয়ে তাদের ঘরের চালের ছাউনি এবং বেড়া তৈরী করে। গোল পাতার ঘরকে প্রাকৃতিকভাবে তাপ নিয়ন্ত্রক ঘর হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। গরমের দিনে গোল পাতা দিয়ে তৈরী ঘরের ভিতরে বেশ ঠাণ্ডা থাকে এবং শীতের দিনে খুব আরাম বোধ হয়। ঘর তৈরীর কাজে ব্যবহারের জন্য এই পাতার খুব চাহিদা থাকলেও বর্তমানে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ফলে এর চাহিদা অনেকটা কমে গেছে।
এছাড়া গোলগাছ একটি ঔষধি গাছ। এর পাতা, ফল ও মূল বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক গোল গাছের পাশাপাশি অনেকে বাণিজ্যিকভাবেও এই গাছের চাষ করে থাকে।
উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক প্রান্তিক এবং স্বল্পবিত্ত লোক গোল গাছের চাষ, রস সংগ্রহ, গুড় তৈরী, পাতা সংগ্রহ ও বাজারজাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সামগ্রিকভাবে এই গাছকে ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলে এক বিরাট অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চলমান রয়েছে।
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: