মহান আল্লাহ তায়ালার পরিচয় তথা সূরা আল ইখলাসের বিশ্লেষণ ।
Автор: M khurshid Alam
Загружено: 2026-02-08
Просмотров: 15
Описание:
আল্লাহর পরিচয় কি ? সূরা আল ইখলাস এর বিশ্লেষণে আল্লাহর পরিচয় ব্যক্ত করা হয়েছে ।
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম আম্মাবাদ ।
ফাআউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
ওহী নাযিলের ঐতিহাসিক ক্রমধারা (Chronological Order) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মক্কার প্রাথমিক যুগে যখন কাফিররা মহান আল্লাহর পরিচয় নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন তুলছিল, ঠিক তখনই নাযিল হয়েছিল ইসলামের ‘তাওহীদ’ বা একত্ববাদের মূল ভিত্তি— সূরা আল-ইখলাস। অনেক নির্ভরযোগ্য সীরাত ও তফসির গ্রন্থের (যেমন: ইবনে ইসহাক ও আল-ইতকান) বর্ণনা অনুযায়ী, সূরা লাহাবের পরবর্তী সময়ে এই সূরাটি নাযিল হয়।
মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠতম ঘোষণা ও বিশ্বাসের মূল ভিত্তি! 💎✨
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। ওহী নাযিলের ধারাবাহিকতায় আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে কাফিররা নবীজি (সা.)-কে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল— "আপনার রবের বংশপরিচয় কী? তিনি কিসের তৈরি?" এই কৌতূহল ও ধৃষ্টতার জবাবে আল্লাহ নিজেই নিজের পরিচয় দিয়ে এই সূরাটি নাযিল করেন। এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান মর্যাদাবান একটি সূরা।
১. অবতীর্ণ সূরা: আল-ইখলাস (পূর্ণাঙ্গ)
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ● اللَّهُ الصَّمَدُ ● لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ● وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
অর্থ: "বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।"
২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মাহাত্ম্য:
সময়কাল: নবুওয়াতের প্রাথমিক মক্কী জীবন (৬১২ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি)।
প্রেক্ষাপট: মক্কার মুশরিকরা মূর্তিপূজা করত এবং তারা মনে করত স্রষ্টাদেরও বংশলতিকা আছে। তারা যখন আল্লাহর 'নসব' বা বংশপরিচয় জানতে চাইল, তখন আল্লাহ এই ৪টি আয়াতের মাধ্যমে চিরকালের জন্য সকল বিভ্রান্তির অবসান ঘটালেন।
মর্যাদা: সহীহ হাদীস অনুযায়ী, এই সূরাটি একবার পাঠ করা পুরো কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পাঠ করার সমান সওয়াব বহন করে, কারণ কুরআনের মূল তিনটি বিষয়ের (তাওহীদ, রিসালাত ও পরকাল) মধ্যে ‘তাওহীদ’ বা আল্লাহর একত্ববাদের পূর্ণ নির্যাস এখানে রয়েছে।
৩. বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
'আহাদ' বনাম 'ওয়াহিদ': আরবিতে 'ওয়াহিদ' মানে এক (যা দুই-তিনের অংশ হতে পারে), কিন্তু 'আহাদ' এমন এক এককত্ব যা অবিভাজ্য। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় যদি বলি, মহাবিশ্বের সবকিছুর মূলে একজন পরম সত্তা বা 'Singularity' থাকা যৌক্তিক, যার কোনো অংশ নেই।
'আস-সামাদ' (The Eternal): এর অর্থ হলো—যিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ। আধুনিক বিজ্ঞান বলে, প্রতিটি বস্তু বা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন, খাবার বা শক্তির প্রয়োজন। কিন্তু আল্লাহ 'সামাদ', অর্থাৎ তাঁর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, বরং মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা তাঁর ওপর নির্ভরশীল। এটিই হলো পরম শক্তির বৈজ্ঞানিক ধারণা।
৪. আমাদের জীবনে এর প্রয়োগ ও আমল (আখলাক):
একনিষ্ঠতা (ইখলাস): এই সূরার নামই হলো 'ইখলাস' বা বিশুদ্ধতা। আমাদের প্রতিটি কাজ যেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, লোক দেখানোর জন্য নয়।
নির্ভরতা কেবল আল্লাহর ওপর: আমরা যখন বিপদে পড়ি, তখন মানুষের পেছনে না ছুটে 'আস-সামাদ' রবের কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। কারণ মানুষ নিজেই অভাবী, আর আল্লাহ অভাবমুক্ত।
চিন্তার মুক্তি: আল্লাহ কারো সন্তান নন বা তাঁর কোনো সন্তান নেই—এই বিশ্বাস আমাদের সকল প্রকার কুসংস্কার ও শিরক থেকে মুক্ত করে এক উদার ও স্বচ্ছ মনন দান করে।
বাস্তব উদাহরণ:
একজন মানুষ যখন বুঝতে পারে যে তার স্রষ্টা একক এবং অদ্বিতীয়, তখন সে আর দুনিয়ার ছোটখাটো শক্তির সামনে মাথা নত করে না। এই বিশ্বাস মানুষের ভেতরে হিমালয়সম আত্মমর্যাদা ও সাহস তৈরি করে। আপনি যখন জানবেন আপনার রব কারো মুখাপেক্ষী নন, তখন আপনার সব চাওয়া-পাওয়া কেবল তাঁর কাছেই সীমাবদ্ধ হবে।
উপসংহার:
সূরা আল-ইখলাস কেবল একটি সূরা নয়, এটি আমাদের ঈমানের রক্ষাকবচ। আসুন, এই সূরার গভীর অর্থ আমাদের হৃদয়ে গেঁথে নিই।
পরবর্তী পোস্টে আমরা আলোচনা করব ক্রোনোলজিক্যাল অর্ডার অনুযায়ী পরবর্তী নাযিলকৃত সূরা নিয়ে, যা আমাদের জীবনের যাবতীয় অকল্যাণ ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার পথ দেখায়। আমাদের সাথেই থাকুন!
#QuranChronology #Episode17 #SurahIkhlas #Monotheism #PureFaith #Islam #পবিত্রকুরআন #তাওহীদ #ওহীর_ধারাবাহিকতা #আল্লাহর_পরিচয় #তাফসীর
Повторяем попытку...
Доступные форматы для скачивания:
Скачать видео
-
Информация по загрузке: